বহুল প্রতীক্ষিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন আগামীকাল মঙ্গলবার। এদিন শিক্ষার্থীদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসতে আহ্বান জানিয়েছেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান।
তিনি বলেন, সারা দেশ আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। সবাই শুভ কামনা জানাচ্ছেন। এখন একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের উত্তরণের প্রক্রিয়াকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে, তাতে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা প্রত্যাশিত।
সোমবার বিকাল পৌনে ৪টার দিকে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ আহ্বান জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এ ভিডিও বার্তা প্রকাশ করা হয়।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, ‘‘ডাকসু নির্বাচন তোমরা চেয়েছিলে; গভীরভাবে প্রত্যাশা করেছিলে; এটি গণ-অভ্যুত্থানের মৌলিক মূল্যবোধের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের জন্য একটি সমন্বিত ভয়েস গড়ে তোলা—এসব মূল্যবোধকে সামনে রেখে তোমাদের চাহিদার ভিত্তিতে ডাকসু নির্বাচন আয়োজন করেছি। নির্ভয়ে ভোট দিতে আসবে, আমরা তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছি।’
অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, ‘‘ভোটকেন্দ্রে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। তারা নিরাপদে ভোট দিতে পারবে। সারা দেশ তোমাদের ওপর আস্থা রেখেছে। তোমরাই সেই আস্থার প্রতিদান দেবে।’
ভিডিও বার্তার শুরুতে তিনি ডাকসু চালু করতে দীর্ঘদিনের প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করেন। বলেন, ‘‘প্রায় ১১ মাসের প্রস্তুতির পর সব অংশীজনকে নিয়ে আমরা শেষভাগে এসেছি। আগামীকাল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ডাকসু ও হল সংসদের নির্বাচন সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৪টায় শেষ হবে।’
এবারের নির্বাচনকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘বিভিন্ন কারণে এবারের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের ৮১০টি বুথ থাকবে, প্রায় ৪০ হাজার ভোটার। প্রথমবারের মতো হল থেকে বের হয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে ৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সিসিটিভি ক্যামেরা, তিন স্তরের নিরাপত্তা ও প্রশিক্ষিত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘‘রিটার্নিং কর্মকর্তারা বিভিন্ন মতাদর্শের হলেও সমাজে তাদের গ্রহণযোগ্যতা আছে। তারা নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালন করছেন। ভোট গণনা এলইডি স্ক্রিনে সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক উপস্থিত থাকবেন পর্যবেক্ষণে।’
প্রার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, ‘‘কিছু প্রার্থী জিতবেন, কিছু জিতবেন না। কিন্তু বিজয়ী ও পরাজিত উভয়েরই ভূমিকা আছে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে সক্রিয় ও প্রাতিষ্ঠানিক করার ক্ষেত্রে। বহু বছর পর আমরা ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। বিজিত ও বিজয়ী—দুজনেরই দায়িত্ব আছে। এটিই সার্থকতা।’
ডাকসুতে এবার মোট ভোটার সংখ্যা ৩৯ হাজার ৮৭৪ জন। এর মধ্যে ছাত্রী ভোটার ১৮ হাজার ৯৫৯ জন ও ছাত্র ভোটার ২০ হাজার ৯১৫ জন। নির্বাচনে ২৮ পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪৭১ জন প্রার্থী। এর মধ্যে পুরুষ ৪০৯ জন এবং নারী ৬২ জন।